গর্ভাবস্থা সম্পর্কে জানুন
সাধারণ সমস্যা ও সমাধান
এখানে গর্ভাবস্থায় অনেক মা যেসব অস্বস্তি বলেন, সেগুলোর সাধারণ আরামের কথা আছে। এটি রোগনির্ণয় বা চিকিৎসা নয়। ওষুধ বা পরীক্ষার সিদ্ধান্ত আপনার চিকিৎসক নেবেন।
বমি বমি ভাব
গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে অনেকের বমি বমি ভাব বা খাবারে অনীহা হয়। সবার ক্ষেত্রে এটি একই রকম নয়।
যা আরাম দিতে পারে
- একবারে বেশি না খেয়ে দিনে কয়েকবার অল্প অল্প খান।
- শুকনো ও হালকা খাবার অনেকের কাছে সহজ লাগে।
- পানি অল্প অল্প করে সারাদিন পান করার চেষ্টা করুন।
কিছুতেই পানি বা খাবার পেটে রাখতে না পারলে, প্রস্রাব কমে গেলে, বা দুর্বলতা খুব বেড়ে গেলে সেই দিনই চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
ক্লান্তি
শরীর যখন নতুনভাবে মানিয়ে নিচ্ছে, তখন দিনের বেলায়ও ক্লান্ত লাগতে পারে।
যা আরাম দিতে পারে
- যখন সুযোগ থাকে তখন অল্প বিশ্রাম নিন।
- হালকা হাঁটা অনেকের শরীরকে হালকা রাখে, কিন্তু ক্লান্ত লাগলে থামুন।
- রাতের ঘুমের সময়টা যতটা সম্ভব নিয়মিত রাখুন।
ক্লান্তির সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, বুক ধড়ফড়, বা অজ্ঞান লাগা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
বুকজ্বালা
গর্ভাবস্থা বাড়ার সঙ্গে বুকজ্বালা বা টক ঢেকুর অনেকের অভ্যাস হয়ে যায়।
যা আরাম দিতে পারে
- বড় খাবারের বদলে ছোট ছোট খাবার খান।
- খাওয়ার পর কিছুক্ষণ সোজা হয়ে বসুন।
- শোয়ার সময় মাথা একটু উঁচু করে রাখা অনেকের আরাম দেয়।
বুকজ্বালা খুব তীব্র হলে, খাবার গিলতে কষ্ট হলে, বা বুকে ব্যথা থাকলে চিকিৎসককে জানান।
পিঠ ও কোমরের অস্বস্তি
পেট ভারী হলে পিঠ ও কোমরে টান লাগা সাধারণ। আরামের ভঙ্গি বদলালে অনেক সময় স্বস্তি হয়।
যা আরাম দিতে পারে
- দীর্ঘক্ষণ একভাবে দাঁড়িয়ে বা বসে থাকলে মাঝে মাঝে ভঙ্গি বদলান।
- ভারী জিনিস তোলার সময় সাহায্য নিন।
- আরামদায়ক জুতা পরুন।
ব্যথা হঠাৎ খুব বেড়ে গেলে, পায়ে অবশ লাগলে, বা প্রস্রাবের সঙ্গে জড়িত তীব্র ব্যথা হলে চিকিৎসকের কাছে যান।
পা ফোলা
দিনের শেষে পা হালকা ফুলতে পারে, বিশেষ করে গরমে বা বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে।
যা আরাম দিতে পারে
- বসার সময় পা একটু উঁচু করে রাখুন।
- আঁটসাঁট মোজা বা জুতা এড়িয়ে চলুন।
- পানি পান চালিয়ে যান, নিজের থেকে পানি কমিয়ে দেবেন না।
এক পা হঠাৎ অনেক ফুললে, ফোলাভাব মুখে বা হাতে দ্রুত বাড়লে, মাথাব্যথার সঙ্গে ঝাপসা দেখা হলে সেই দিনই যোগাযোগ করুন।
ঘুমের অসুবিধা
পেট ভারী হলে, ঘন ঘন প্রস্রাব হলে, বা চিন্তা থাকলে ঘুম ভাঙতে পারে।
যা আরাম দিতে পারে
- সন্ধ্যায় একই রকম শান্ত রুটিন রাখুন।
- ঘুমানোর আগে ভারী খাবার এড়িয়ে চলুন।
- গর্ভাবস্থা বাড়লে অনেক মা কাত হয়ে শুতে আরাম পান। যে ভঙ্গিতে নিঃশ্বাস সহজ থাকে, সেটাই নিন।
ঘুমের অভাবে দিনের কাজ কষ্টকর হয়ে গেলে, বা নিঃশ্বাস আটকে যাওয়ার অনুভব হলে চিকিৎসককে বলুন।
মন খারাপ বা দুশ্চিন্তা
গর্ভাবস্থায় আনন্দ ও দুশ্চিন্তা দুটোই আসতে পারে। মন ভারী লাগা লুকানোর বিষয় নয়।
যা আরাম দিতে পারে
- বিশ্বাস করা কারও সঙ্গে কথা বলুন।
- প্রতিদিন অল্প সময় শান্ত থাকা, দোয়া বা নরম আলোতে বসা অনেকের কাছে সহায়ক।
- নিজেকে একা সামলাতে না পারলে সাহায্য চাওয়া স্বাভাবিক।
মন খারাপ কয়েকদিন ধরে থেকে গেলে, নিজের বা শিশুর ক্ষতি করার কথা মনে এলে, তৎক্ষণাৎ আপনার চিকিৎসক বা কাছের মানুষের সাহায্য নিন।
